Parents Forum For Differently Able  এবং  PFDA- Vocational Training Center-  এর উদ্যোগে গত ০১/০২/২০১৯ তারিখে গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ের  ‘Proshanti Eco Resort’ – এ বিশেষ আনন্দঘন পরিবেশে, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অফিস স্টাফদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন ।

প্রতিবছরই এই দিনটি ঘুরে আসে । বাচ্চা, আভিভাবক ও শিক্ষকদের একসাথে আনন্দে মেতে উঠার দিন এটি। শিক্ষক ও অভিভাবকগণও দিনটিতে বাচ্চাদের কাতারে হাজির হন । দু’মাস আগ থেকেই তোড়জোর । ভেন্যু কোথায় হবে, ভেন্যু তে কি কি ফ্যাসিলিটি থাকবে, খেলার কি কি আয়োজন  থাকবে । বাচ্চাদের কোন কোন খেলা থাকবে, মায়েদের কোন কোন খেলা থাকবে । বাবাদের কি কি খেলা রাখা হবে , টিচারদের জন্য কোন কোন খেলা থাকবে । সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য কোন কোন  বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে , চাঁদার হার কেমন হবে, কোন কমিটিতে কে কে থাকবে । এ রকম নানান পরিকল্পনা ও দায়-দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পালা চলতে থেকে। চলতে থাকে মিটিং, চলতে থাকে রিহার্শাল । বাচ্চাদের ভিতর থেকেও আসে নানান মতামত ।

সত্যি এবারের  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য বাবা-মায়েদের রিহার্শাল ছিলো বেশ আনন্দময় ও ভীষন মজার । নির্দিস্ট দিনের নির্দিস্ট সময়ে অফিসে এসে বাবা-মায়েদের রিহার্শাল করা ছিলো অনেকটা চ্যালেঞ্জের । উনাদের রিহার্শাল ছিলো বেশ স্বতঃস্ফুর্ত ।  এতদিন তারা বাচ্চাদের রিহার্শাল দেখেছেন,  পারফরমেন্স দেখেছেন । আর এখন উনাদের নিজেদের পালা । একদিকে চলছে বাচ্চাদের অ বাবা-মায়ের রিহার্শাল। অন্যদিকে চলছে গিফট কেনার তোড়জোড় । নানান পদের গিফট কেনা হলো । হলো সেগুলোর র‍্যাপিং। করা হলো গাড়ী ভাড়া । ঠিক করা হলো গাড়ীর রুট । ইতিমধ্যে থিক হয়ে গেছে কন গাড়ীর দায়িত্বে কে থাকবেন , আর কোন গাড়ীতে কতটি খাবার যাবে । কোন গাড়িতে নাটকের প্রপ্স আর খেলাধুলার সরঞ্জাম যাবে ইত্যাদী , ইত্যাদী । এবারের পিকনিকের সকালের ও বিকেলের জন্য খাবার তৈরী করেছে আমাদের ‘Angel Chef’ .

শেষতক ফিরে আসল সেই দিন । ঠিক সময়ের মধ্যে সকলেই  হাজির । প্ল্যান অনুজায়ী গাড়ীতে গাড়ীতে উঠানো হলো নির্দিস্ট জিনিসপত্র , খাবার-দাবার, উঠলাম আমরা সবাই । সকালের নাস্তা গাড়িতেই খেলাম আমরা ।আমরা সবাই বুঝলাম সকালের  খাবার খুব মজার ছিলো । আস্তে আস্তে পৌছে গেলাম ভাওয়াল গড়ের শালবনের ছায়াঢাকা বনের          ‘ প্রশান্তি ইকো রিসোর্টে’। সুন্দর আয়োজন রিসর্টের । আগে থেকেই মাঠে ষ্টেজ তৈরী করা ছিলো, বিভিন্ন খেলার জন্য মাঠের মধ্যে ছিলো সুন্দর আয়োজন । সকল খেলাধুলা শেষ করার পর সময় এলো লাঞ্চ করার ।

খাবারের জন্য রিসোর্টের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়োজনের পাশাপাশি  বাইরের ফাঁকা জায়গায় ছিলো শামিয়ানা টাঙানো । লাঞ্ছের পর রিসোর্টের অডিটোরিয়ামে উপভগ করলাম  karishma cultural group -এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- ‘ সঞ্চারিণী ‘ । অসম্ভব সুন্দর অনুষ্ঠান । বাচ্চা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অংশগ্রহনে প্রাণবন্ত ছিলো  অনুষ্ঠানটি।  প্রকৃতির মাঝে ঘুরাঘুরি শেষে  ‘Angel Chef ’-এর বিকেলের খাবার ও বাচ্চাদের জন্য গেব্জি হাতে নিয়ে  ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা । ফিরার পথে গাড়ীতে হৈ হুল্লোড়, গান আর গান । কেও কেও ঘুমিয়ে একটু জিরিয়ে নিল ফাঁকে।

Leave a Reply