ফরমায়েসি কোনো লেখা লেখি না। যৎ সামান্য যা লিখি তা মনের তাগিদে ও নিজ অনুভূতি প্রকাশের প্রেরণা থেকে। কিন্তু এ লেখাটা খানিকটা ফরমায়েসি। আমি মন্ত্রী— প্যারণ্টেস ফোরাম আমার কাছে আসে। কথা বলে বুঝতে পারি সাক্ষাৎকারীগণ অটিজম নিয়ে কাজ করছে। এদের প্রত্যেকের সন্তান অটিজমের শিকার। সংবদ্ধভাবে অটিস্টিকদের কর্মক্ষম করে তোলার জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যে সব বাবা-মার এরূপ সন্তান আছে তাদের সচেতন করার জন্য কাজ করতে আগ্রহী। তখনই আমার মনে পড়ে যায়, বাংলাদেশে অটিজমের ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে কন্যাসম সায়মা হোসনে পুতুল একটি আর্ন্তজাতকি অনুষ্ঠান করে। যে অনুষ্ঠানকে গুরুত্ববহ করতে ভারতীয় কংগ্রেস নেত্রী শ্রীমতী সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশে এসেছিলেন।

পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকার সুবাদে ঐ সম্মেলনে আগত অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্য পাটজাত ব্যাগ উপহার দেই। ভেতরে ভেতরে মন তৈরি থাকায় প্যারণ্টেস ফোরামরে তৎপরতার সঙ্গে মানবীয় কারণেই জড়িয়ে পড়ি। মন্ত্রী থাকার কারণে অনেকেই আমার অনুরোধে আর্থিক সাহায্য করেন। একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়। এখন ৬৬ জন অটিস্টিক কিশোর-কিশোরী কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে সাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছে। আমাকে যা স্পর্শ করে তা হলো, এই প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত কিশোর-কিশোরীরা বদ্ধ পরিবেশ থেকে খোলা পরিবেশে বিচরণ করার যে সুযোগ পেয়েছে, তাতে তারা অনেক বেশি আনন্দ লাভ করছে। এই সুযোগ এবং আনন্দ বিতরণ অব্যাহত রাখতে হলে মানবীয় গুণাবলিসম্পন্ন মানুষদের উদার সাহায্যের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এরা অক্ষম-অকর্মণ্য নয়। ওদের যার যে প্রতিভা আছে তা খোঁজ করা এবং সেইভাবে বিকশিত করাই কেন্দ্রটির প্রধান কাজ।

আমার প্রত্যয় কেন্দ্রটি খুবই যোগ্যতা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিগত এক বছর এ কাজ করছে। প্রতি বছর তারা অতিক্রম করবে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে এবং সম্ভাবনাকে জয় করে। নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা নিষ্ঠাবান ও তারা তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে খুবই সজাগ ও সতর্ক। আমার বলার বিষয়—মাত্র একটি বা একশত কেন্দ্রেই এ প্রচেষ্টা যেন সীমাবদ্ধ না থাকে; প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত ক্ষুদ্র কিন্তু আমাদেরই অংশ কিশোর-কিশোরীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যতটি প্রতিষ্ঠান দরকার ততটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের এক্ষেত্রে উদারভাবে এগিয়ে আসতে হবে।